সালাহ সুশৃঙ্খল জাতি গঠন ও সত্য প্রতিষ্ঠার অনিবার্য প্রস্তুতি

২১ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মুস্তাফিজ শিহাব:
আজ পৃথিবীতে প্রায় আড়াইশো কোটি মুসলমান। পৃথিবীর প্রায় ৫৭টি দেশের সম্মিলিত এক বিশাল আয়তন আজ এ জাতির করতলগত। মানবসম্পদ থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ- সব দিক থেকেই এ জাতি এক নজরকাড়া অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। কিন্তু বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করলে বর্তমান মুসলিম জাতির থেকে বেশি অবহেলিত, উপেক্ষিত ও নির্যাতিত আর কোনো জাতি নেই। কিন্তু ইতিহাস বলে এ জাতির অবস্থা এতটা করুণ কখনোই ছিল না। এমনকি নব্যজাতি হিসেবে উন্মেষকালে সংখ্যায় নগণ্য হয়েও উম্মতে মোহাম্মদী একই সাথে তৎকালীন দুই দুইটি পরাশক্তিকে, (পারস্য ও রোম) পদানত করেছিল। কিন্তু আজ মুসলিম জাতি সংখ্যায় এত বিশাল হয়েও অন্যান্য জাতির কাছে ক্রমাগত মার খেয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আকিদাবিচ্যুতির ফলে তওহীদের রাস্তা থেকে সরে গিয়ে জেহাদ ত্যাগ করা। কারণ জাতি যখন জেহাদ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করেছে তখনই জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে অন্য জাতির গোলামে পরিণত হয়েছে।

“জাতি যখন জেহাদ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করেছে, তখনই জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে অন্য জাতির গোলামে পরিণত হয়েছে।”

তবে জেহাদ ত্যাগ করায় জাতি যখন ইসলামের সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয় তখন অপরিহার্য আমলগুলোর আকিদাও নষ্ট হয়ে যায়, যার মধ্যে অন্যতম আমল হচ্ছে সালাহ। আজ যে সালাহর সচিত্র রূপ আমরা দেখতে পাই তার মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝা যায়, যে লক্ষ্যে মহান আল্লাহ সালাহ করাকে ফরজ করেছিলেন সে লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে বর্তমানের ‘নামাজ’ অনেক দূরে সরে গিয়েছে।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

বর্তমানে আমরা সালাহকে কেবল একটি ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক আমল হিসেবে গ্রহণ করেছি, কিন্তু এর পেছনের যে মূল কারণ সে মূল উদ্দেশ্যকেই ভুলে গিয়েছি। আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসুল কে প্রেরণ করেছিলেন একটি সঠিক আদর্শ (তওহীদ) ও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (ইসলাম) দিয়ে এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যাতে সে দীনকে সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেন (সুরা আল-ফাতাহ, ৪৮:২৮; সুরা আস-সফ, ৬১:৯; সুরা আত-তাওবাহ, ৯:৩৩)। আর এ গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য যে শারীরিক ও আত্মিক চরিত্র দরকার, সালাহ হচ্ছে সে চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ- যে সত্য আজ এ মুসলিম জাতির সামনে অনুপস্থিত।

‘সালাহ’ কীভাবে ‘নামাজ’ হয়ে গেল?
প্রথমেই ‘সালাহ’ কীভাবে ‘নামাজ’-এ পরিণত হলো সে সম্পর্কে কথা বলা দরকার। তাহলে সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন কীভাবে ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাথে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমলের উদ্দেশ্যও এ জাতির মধ্য থেকে হারিয়ে গিয়েছে। পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহ ‘সালাহ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে যে শব্দটি প্রচলিত আছে তা ‘নামাজ’। আরবি ‘সালাহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সংযুক্ত করা, অনুসরণ করা বা সংলগ্ন থাকা। অর্থাৎ সহজে যদি সালাহর মূল উদ্দেশ্য বলি তাহলে সালাহ অর্থ, আল্লাহর হুকুমের সাথে সংযুক্ত থেকে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতাকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা। যদি ‘নামাজ’ শব্দটির অর্থ বিশ্লেষণ করি তবে ফারসি ‘নামাজ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে উপাসনা করা, প্রার্থনা করা বা মাথা নত করা।

“সালাহ যে ধরনের শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়, সে শিক্ষা শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণের শৃঙ্খলার সাথেই তুলনা করা যায়।”
তাহলে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, দ্বিতীয় স্তম্ভ- সালাহর নাম আরবী ভাষা থেকে ফারসিতে রূপান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে তার মূল স্বরূপও হারিয়ে যায়। সালাহ শব্দটির মধ্যে যেরূপ গতিশীলতা, সামষ্টিক শৃঙ্খলা এবং একটি বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা ‘নামাজ’ শব্দে তো নেইই, বরং এর ফলে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরের আচার-অনুষ্ঠানে (Ritual) পরিণত হয়ে গেল। ফলে যে সালাহ ছিল মুসলিম জাতির শারীরিক ও আত্মিক উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রশিক্ষণ, সে সালাহ হয়ে গেলো অন্যান্য ধর্মের উপাসনার মতই শুধুমাত্র সওয়াব কামাই করার একটি মাধ্যম।

ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি
সালাহ জাতিকে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। প্রাত্যহিক পাঁচবার যখন আজান দেয়া হয় তখন মুসলমানরা বিভিন্ন জায়গা থেকে একটি নির্ধারিত স্থানে মসজিদে সমবেত হয়। সবাই পবিত্র কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু, ছোট-বড়, কালো-সাদা, লম্বা-খাটো ইত্যাদি সব ধরনের বিভেদ ভুলে গিয়ে একটি দেহ ও আত্মায় পরিণত হয়। যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা তারা সালাতে শিখে সে শিক্ষা শুধুমাত্র সালাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রতিটি মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও সম্পর্কিত। এক নেতার আদেশে সবাই যখন একসাথে রুকু, সিজদাহসহ সালাতের অন্যান্য বিষয়গুলো মেনে চলে- ঠিক তেমনি সমাজের সবাই এক নেতার আদেশেই তাদের সমাজ জীবন পরিচালিত করবে- এ শিক্ষাই সালাহর মাধ্যমে লাভ করা হয়। কাজেই যারা সালাহ করবে তারা সর্বদা মনে রাখবে, যে ধরনের ঐক্যবদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে তারা মসজিদে দাঁড়িয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে সমাজেও চলবে। তারা সমাজে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিবে না, কারো সাথে অন্যায় করবে না, দোকানে বাটপারি করবে না, কারো হক নষ্ট করবে না- সর্বোপরি সমাজের একটি দেহ ও আত্মা হয়েই বসবাস করবে। কিন্তু আফসোসের সাথে বলতে হয় সালাহর এ প্রকৃত শিক্ষা আজ আমাদের মধ্যে নেই।

শৃঙ্খলার এক অন্যন্য শিক্ষাপদ্ধতি
যেকোনো জাতি যদি উন্নতি ও প্রগতির শীর্ষে আরোহণ করতে চায় তবে অবশ্যই তাদেরকে শৃঙ্খলিত হতে হবে। শেষ দীন বা জীবনব্যবস্থা ইসলামের মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে একটি সুশৃঙ্খলিত ও সুসংগঠিত জাতি হিসেবে তৈরি করতে চেয়েছেন- আর সালাহ সে লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

“সালাহ শব্দটির মধ্যে যেরূপ গতিশীলতা ও সামষ্টিক শৃঙ্খলা রয়েছে তা ‘নামাজ’ শব্দে নেই, বরং এর ফলে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরের আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত হয়ে গেল।”

সালাহর মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহ শৃঙ্খলার শিক্ষা লাভ করবে। সালাহর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের দিকে যদি তাকাই তাহলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়। প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন মো’মেন মূল যে লক্ষ্য অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সে সংগ্রামের জন্য তৈরি হয়। প্রথমেই আজানের ঘোষণা হলে সে অনুযায়ী মসজিদে উপস্থিত হওয়া। এরপর অযু করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন। ‘সফ’ বা কাতার সোজা করে দাঁড়ানো। ইমামের তাকবির বা আদেশ অনুসারে রুকু-সিজদা ও অন্যান্য সকল কিছু যথাযথভাবে পালন করা। সোজা হয়ে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সালাম ফেরানো পর্যন্ত প্রতিটি কাজে একজন মো’মেনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ যদি একটি আদেশও সুষ্ঠুভাবে পালন না হয় তবে সালাহ হবে না। তাই সালাহ যে ধরনের শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় সে শিক্ষা শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণের শৃঙ্খলার সাথেই তুলনা করা যায়। কিন্তু বর্তমানের মসজিদগুলোতে গেলে সালাহর সে রূপের বদলে জুবুথুবু হয়ে উপাসনা করার একটি ছবি দেখা যায়। যদি উপাসনাই মূল লক্ষ্য হত তবে এত নিয়মকানুনের আদৌ কী কোনো প্রয়োজন ছিল? সালাহ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যার যেমন খুশি তেমন না করে তারা জাতিগতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে জাতীয় যে কোনো সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে, কারণ যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মত যে কোনো অন্যায় দূর করার জন্য এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতির কোনো বিকল্প নেই।

আনুগত্যের পরীক্ষা ও আদেশের ধারাবাহিকতা
আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে বলেন, “হে মো’মেনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসুলের আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তোমাদের মধ্যকার আমিরদের (সুরা নিসা ৩:৫৯)।” ইসলামের মূল উদ্দেশ্য অর্জনের জন্যই মহান আল্লাহ এ আদেশের ক্রমধারা দিয়ে দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ যখন মানবজাতির মধ্যে শান্তি, ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে সত্য দীন প্রেরণ করলেন এবং এ দীন প্রতিষ্ঠা করাকে ফরজ করে দিলেন তখন তিনি এ জাতির জন্য আদেশের একটি ক্রমধারাও ঠিক করে দিলেন। কারণ যে জাতি সংগ্রাম করবে তাদেরকে শৃঙ্খলিতভাবে একটি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করতে হলে আদেশের নির্দিষ্ট ক্রমধারা অপরিহার্য।

“সালাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ইবাদত নয়; এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা একজন মো’মেনকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা প্রদান করে।”

আর এ আদেশের ক্রমধারা (Chain of Command) এর প্রতি শর্তহীন, প্রশ্নহীন ও দ্বিধাহীন আনুগত্য করা অপরিহার্য। আর সালাহ সে আনুগত্যের শিক্ষা দিয়ে থাকে। সালাতে দাঁড়ানোর পর ইমাম যখন ‘আল্লাহ আকবার’ বলে সালাহ শুরু করেন তখন কোনো অবস্থাতেই সে আদেশকে অমান্য করার সুযোগ নেই। এরপর থেকে প্রতিটি আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের মাধ্যমেই সালাহ পূর্ণ হয়। যদি কেউ মধ্যখান থেকে কোনো আদেশকে অমান্য করে তবে তারা সালাহ হবে না। এমনকি ইমামের আগে যদি রুকু বা সিজদায় করে তবে সেক্ষেত্রেও সালাহ হবে না। এই যে প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতাকে অনুসরণ করে সে অনুযায়ী কাজ করা, এ শিক্ষা শুধু সালাতে নয় বরং আমাদের সমাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ একজন মো’মেন যখন দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে তখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে তাঁর নেতাকে অনুসরণ করবে। নেতার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ এলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। এ আনুত্যের মাধমেই ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। তেমনি সমাজে যদি আনুগত্যের এ শিক্ষা বজায় না থাকে তবে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং তারা নিজেদের ইচ্ছেমত চলার ফলে অন্যান্য জাতির হাতে লাঞ্ছনার শিকার হবে। বর্তমান মুসলিম জাতির দুর্দশার দিকে তাকালেই আমার এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়। সালাহ হচ্ছে সে শিক্ষাপদ্ধতি বা প্রশিক্ষণ যার মাধ্যমে আনুগত্যের শিক্ষা লাভ হয়।

জেহাদ ও সালাহর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
আল্লাহ তাঁর সত্য দীন প্রতিষ্ঠার যে দায়িত্ব তাঁর রসুলের উপর দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে রসুল (স.) সে দায়িত্ব তাঁর উম্মাহর বা জাতির উপর দিয়ে গিয়েছেন সে দায়িত্ব পালনের একমাত্র উপায় হচ্ছে ‘জেহাদ’। অনেকেই জেহাদ এর অপব্যাখ্যা দাঁড় করালেও প্রকৃত ইসলামে জেহাদ অর্থ সর্বাত্মক সংগ্রাম- অর্থাৎ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম করা।

কিন্তু সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন যে এ সংগ্রাম এত সহজ নয়। এ সংগ্রামে একজন মো’মেনকে বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার জন্য জীবন সম্পদ সব কিছু কোরবানি দিতে হবে। এ কোরবানি করার জন্য তার যে আত্মিক মনোবল প্রয়োজন সে মনোবল অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে সালাহ। মো’মেন যদি আত্মিকভাবে দুর্বল হয় তবে সে কখনোই দীন প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে তার জীবন ও সম্পদকে কোরবানি করতে পারবে না। তাই সালাহ হচ্ছে সে প্রশিক্ষণ যা শুধুমাত্র একজন মো’মেনের শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের প্রশিক্ষণ হিসেবেই কাজ করে না, বরং তার আত্মিক মনোবল দৃঢ় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করে। তাই দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যারা করবেন তাদের জন্য সালাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালাহ হোক মুক্তির দিশারি
পরিশেষে বলা যায়, সালাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ইবাদত নয়; এটি ইসলামি জীবনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সালাহ সে প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণ যা একজন মো’মেনকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতা প্রদান করে। যদি কোনো কিছুর সাথে সালাহ কে তুলনা করতে হয় তবে শুধুমাত্র সামরিক কুচকাওয়াজের সাথেই সালাহ কে তুলনা করা যাবে। কারণ সালাহর মাধ্যমে একজন মো’মেন ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এ তিনের সম্মিলিত শিক্ষা লাভ করে এবং এর মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সংগ্রাম করতে পারে। তাই সময় হয়েছে সালাহর প্রকৃত শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করার। যদি সালাহর প্রকৃত শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় তবে আমাদের সমাজ সত্যিকার ভাবেই শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্তে রূপান্তরিত হবে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফেরত নিতে গড়িমসি করায় চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এক…
৫ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:রাজধানীর কলাবাগান থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার শুভ (৩২) নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।…
৪ মে ২০২৬ ঢাকা

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে তৈরি করা বিএনপির সব অস্থায়ী কার্যালয় এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ…
৩ মে ২০২৬ ঢাকা

শ্রীপুরে স্কুলের অফিস কক্ষে চুরি

শ্রীপুরে স্কুলের  অফিস কক্ষে চুরি
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে অফিস কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার  (১মে) রাতে  উপজেলার  তেলিহাটি ইউনিয়নের…
২ মে ২০২৬ ঢাকা

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
১ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

মে দিবস উপলক্ষে বাড্ডায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের র‍্যালি

মে দিবস উপলক্ষে বাড্ডায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের র‍্যালি
মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি করেছে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকরা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত অঞ্চল…
১ মে ২০২৬ ঢাকা

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রীপুরে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসির পাঁচ পরিক্ষার্থী আহত

শ্রীপুরে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসির পাঁচ পরিক্ষার্থী আহত
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরিক্ষার্থী বহনকারী সিএনজির সঙ্গে ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন পরিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি…
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
২৭ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
২৭ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ