রিয়াদুল হাসান:
যে কোনো কিছুর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে তার উদ্দেশ্য পূরণের ওপর। যেমন একটি ফোনের উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ করা। যদি সেই ফোন দিয়ে কথা বলা না যায়, তাহলে সেটি যত দামিই হোক না কেন, ফোন হিসেবে তা মূল্যহীন। সেটা দিয়ে হয়তো কেউ লোক দেখানো বড়াই করতে পারে, কিন্তু কথা বলতে হলে তাকে সাধারণ মানের ও কমদামি হলেও আরেকটি ফোন ব্যবহার করতে হবে। আমরা কি আমাদের বাসায় উদ্দেশ্যহীন কোনো কিছু রাখি? রাখি না। অকেজো সবকিছুই একটা সময় ডাস্টবিনে চলে যায়। তাহলে বলুন তো, আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থায় এমন কোনো বিধান কি থাকতে পারে যার কোনো উদ্দেশ্য নেই? সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়, থাকতে পারে না। এখন আমরা যদি আল্লাহর কোনো হুকুমের সঠিক উদ্দেশ্যই না বুঝি বা ভুলভাবে বুঝি তাহলে সেই আমল বা কাজ হবে ওই নষ্ট দামি ফোনটা বহন করে বেড়ানোর মতোই অর্থহীন। এমন উদ্দেশ্যহীন আমলের বিষয়েই আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তাদের আমলসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।’ (সুরা ফোরকান ২৩)।
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আজকে ইসলামের বহু আমল ঐ দামি ফোনের মতোই অর্থহীন হয়ে গেছে। কারণ সেগুলোর সঠিক উদ্দেশ্যগুলো হারিয়ে গেছে আর ভুল উদ্দেশ্যে সেগুলো করে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি খোদ ইসলামের উদ্দেশ্য কী সেটা নিয়েও আমাদের ধারণা ভুল হচ্ছে। আমরা যদি আজকে জানতে চাই যে, ইসলামের মূল উদ্দেশ্য কী, নবী কেন এসেছেন, কেন একটি জাতি গঠন করেছেন, কিংবা কোর’আনের উদ্দেশ্য কী – দেখা যাবে এসব মৌলিক প্রশ্নেরও ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে ইসলামের বিভিন্ন আমলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলেও দেখা যাবে ২২০ কোটি মুসলমানের কাছ থেকে অসংখ্য ভিন্ন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, তারা সবাই মৌলিক বিশ্বাসগুলোর বেলায় একমত। তারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ করে। কিন্তু সেগুলো কেন করে সে সম্পর্কে তারা স্পষ্ট নয়। তাদের কাছে আমলের উদ্দেশ্য এরকম- ‘আল্লাহ বলেছেন তাই করি’, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য করি’, বা ‘সওয়াব হবে তাই করি’।
যদি আপনার বাবা আপনাকে বাজারে যেতে বলেন, আপনি প্রথমেই জানতে চাইবেন কেন বা কী আনতে হবে। সেটা না জেনে সরাসরি চলে যাবেন না, গেলে পণ্ডশ্রম হবে। ঠিক তেমনি, আল্লাহর সব হুকুমও আমাদের পালন করতে হবে, কিন্তু সেটার উদ্দেশ্য বুঝে। নাহলে সব আমলই হবে পণ্ডশ্রম। একারণেই আল্লাহর রসুল বলেছেন, সকল আমল তার নিয়ত বা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। আল্লাহও কোর’আনে স্পষ্ট করে বলেছেন, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (সুরা বনি ইসরাইল ৩৬)।
মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

এবার আসুন কিছু আমলের সঠিক উদ্দেশ্য জেনে নেওয়া যাক।
ইসলামের উদ্দেশ্য কী?
ইসলামকে আর দশটা ধর্মের মতো কেবল একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষার ধর্ম মনে করলে বিরাট ভুল হবে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনপদ্ধতি। এটি শুধু ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক জীবন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র যেমন অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি ও প্রশাসন, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পরিবারব্যবস্থা, বাণিজ্য, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক- সবকিছুকে ন্যায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে ইসলাম। তাই একজন মানুষ চাইলেও ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম হতে পারে না। ইসলাম সামগ্রিক জীবনবিধান। তাই মুসলিম হতে হলে তাকে সামগ্রিক জীবনে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থাকে মেনে চলতে হবে। এই জীবনব্যবস্থা পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো মানবজীবন থেকে যাবতীয় অন্যায় অবিচার নির্মূল করে শান্তি, ন্যায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্যই এই জীবন্যবস্থার নাম আল্লাহ দিয়েছেন ইসলাম অর্থাৎ শান্তি।
কলেমা তওহীদের উদ্দেশ্য কী?
আমরা জানি যে, কাফেররা যখন ইসলাম গ্রহণ করতে চাইত তখন মহানবী তাদেরকে কলেমা পাঠ করাতেন। তিনি বলেন, যারা বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তারা জান্নাতে দাখিল হবে। এটা কী করে হতে পারে? এটা কি যুক্তিযুক্ত? যদি আপনি এই কলেমার অর্থ বুঝেন তাহলেই এ প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন। এই কলেমা বা তওহীদ হচ্ছে বান্দার সাথে আল্লাহর একটি চুক্তি। বান্দা এই চুক্তির মধ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, ‘আমি আল্লাহ ছাড়া আমার জীবনে আর কাউকে হুকুমদাতা হিসাবে মানি না”। ইলাহ মানে হুকুমদাতা বিধানদাতা। যদি মানুষ আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসাবে গ্রহণ করে তাহলে তার জীবনব্যবস্থায় আল্লাহর হুকুম কায়েম থাকতে হবে। যেমন আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন। যদি আমাদের রাষ্ট্র সুদের বৈধতা দেয় তাহলে কোনো মুসলিম সেই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মানতে পারে না।
একইভাবে আল্লাহ কোর’আনে যে অপরাধের জন্য যে শাস্তি ঘোষণা করেছেন, কোনো দেশের আদালতে যদি সেই বিধান না চলে তাহলে একজন মুসলিম সেই বিচারব্যবস্থা, সেই আদালতকে মানতে পারে না। যদি মানে তাহলে সে কলেমার ঐ চুক্তি ভঙ্গ করল। সেক্ষেত্রে তার জান্নাতে দাখিল হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা রইল না। তাহলে আমরা বুঝলাম যে, এই একটি ছোট ঘোষণা আমাদের পুরো জীবনব্যবস্থাটাকেই পাল্টে দিচ্ছে। এটা কেবল একটি বাক্য নয় যে তসবিহর দানা গুনে গুনে যিকির করব। এটা একটি জীবনব্যবস্থার ভিত্তি, এটা মানবরচিত সকল জীবনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবের ঘোষণা। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই একজন মো’মেনের জন্য দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাধ্যতামূলক হয়। কারণ আল্লাহর দীন মোতাবেক জীবন পরিচালনা করতে হলে আগে সেটাকে জাতীয় রাষ্ট্রীয় তথা সর্ব অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেটার জন্য লাগবে সংগ্রাম, জেহাদ। এভাবে ইসলামের প্রতিটি আমলই কলেমার সঙ্গে জড়িত।
কোর’আনের উদ্দেশ্য কী?
আমাদের ঘরে ঘরে কোর’আন। ছোট বেলাতেই মক্তবে গিয়ে আমরা কায়েদা, আম্পারা শিখে কোর’আন ধরি, প্রতি রোজায় কোর’আন খতম করি। আমাদের বলা হয়েছে, কোর’আনের প্রতি অক্ষরে দশ নেকি, রোজার মাসে তা সত্তরগুণ বেশি। লক্ষ লক্ষ মুসলিম আছে কোর’আনে হাফেজ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে কোর’আনের উদ্দেশ্যই হলো এটা শুধু পড়তে হবে। তবে সুর করে পড়লে আরো ভালো। কিন্তু আসলে কি কোর’আন এজন্য এসেছে? মোটেই নয়। সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহ এর উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন, ‘এই সেই কেতাব যাতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক।’ মুত্তাকি অর্থ যারা আল্লাহর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে সচেতন, সদাসতর্ক। এই কোর’আন তাদেরকে জীবনচলার পথ দেখাবে। সুতরাং কোর’আন হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার সংবিধান বা মূলনীতি। যে কোনো সংবিধান যদি মানুষের জীবনে কার্যকর করা না হয়, তাহলে সেটার অস্তিত্বের কোনো মূল্য নেই, সেটা যত নিখুঁত ও শ্রেষ্ঠ সংবিধানই হোক না। এ কথাটি আল্লাহ কোর’আনে বারবার বলেছেন, আমি সত্যদীন ও হেদায়াহ সহকারে আমার রসুল প্রেরণ করেছি, যেন তিনি একে অন্যান্য সকল জীবনব্যবস্থার উপরে বিজয়ী করেন (সুরা ফাতাহ ২৮, সুরা তওবা ৩৩, সুরা সফ ৯)। কোর’আনের এই উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে আমরা যখন কেবল তেলাওয়াত করাকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছি, তখন সর্বশেষ আসমানি কেতাবটাও অর্থহীন হয়ে গেছে। কারণ এর দ্বারা মানুষ আর জীবন পরিচালনার পথ পাচ্ছে না। যেমন, কোর’আনে আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, অথচ আমাদের সমাজের সর্বত্র সুদ আর অবিচার। তাহলে এত কোর’আন পড়ে, এত হাফেজ হয়ে কী লাভ হলো? যদি আমরা সত্যিই কোর’আনের প্রতি বিশ্বাস রাখি এবং এর প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে চাই, তবে কোর’আনে আল্লাহ যে হুকুম-বিধান দিয়েছেন সেগুলো আমাদের বাস্তব জীবনের সর্বক্ষেত্রে সংগ্রাম করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তখনই কোর’আন আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।
নামাজের উদ্দেশ্য কী?
এটা সুপ্রতিষ্ঠিত ধারণা যে, নামাজ হচ্ছে মুসলমানদের প্রধান উপাসনা ও ইবাদতের মাধ্যম। খ্রিষ্টানদের যেমন প্রার্থনা, হিন্দুদের পূজা, তেমনি মুসলমানদের নামাজ। যদি মুসল্লিদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ‘আপনি নামাজ কেন পড়েন’, তারা কয়েক ধরনের উত্তর দিয়ে থাকেন। যেমন- আল্লাহ নামাজ ফরজ করেছেন, আল্লাহ হাশরের দিন প্রথম নামাজের হিসাব নিবেন- তাই পড়ি। কেউ বলবেন, নামাজ জান্নাতের চাবি, কেউ বলবেন, নামাজ হলো প্রার্থনা, আল্লাহর যিকির। কেউ বলবেন, নামাজের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি হয়, শান্তি পাওয়া যায়। কেউ বলবেন, নামাজ হচ্ছে আল্লাহর ধ্যান, নামাজ মো’মেনদের মিরাজ। কেউ বলবেন, নামাজের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নেকি হাসিল করা ইত্যাদি।
বাস্তবে এগুলো কোনোটাই নামাজের আসল উদ্দেশ্য নয়। কোনো কিছু উদ্দেশ্য আসলে এতগুলো হয় না, উদ্দেশ্য থাকে একটাই। বাকি সব আনুষাঙ্গিক। রসুলের একটি হাদিস থেকে নামাজের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে জানা যায়। তিনি বলেছেন, “ইসলাম একটি ঘরের মতো, যার ভিত্তি হলো ঈমান বা তওহীদ, খুঁটি হলো সালাত, আর ছাদ হলো জেহাদ।” ঘরের খুঁটি যেমন ছাদকে ধরে রাখে, তেমনি সালাতের উদ্দেশ্য হলো জেহাদকে সমুন্নত রাখা। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জেহাদ করার জন্য যেসব গুণাবলী প্রয়োজন, সেগুলো একজন মো’মেনের চরিত্রে প্রতিষ্ঠা বা কায়েম করাই সালাতের মূল উদ্দেশ্য।
পৃথিবীর কোনো শক্তিশালী সেনাবাহিনীই শুধুমাত্র অস্ত্রশিক্ষা দিয়েই তাদের সৈনিকদের গড়ে তোলে না, বরং তারা সৈনিকদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য, ধৈর্য, সাহস এবং দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলীও প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সৈনিকদের নিয়মিত প্যারেড ড্রিল বা কুচকাওয়াজ (March Past) এ অংশগ্রহণ করানো হয়, যেখানে একজন কমান্ডারের নির্দেশে তারা ডান-বাম করে, একই ছন্দে চলাফেরা ও বিভিন্ন কমান্ড পালন করে। এর মাধ্যমে তাদের দেহ ও মন দুটোই প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
যাদের সত্যের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা আছে তারাও এটা স্বীকার করবেন যে, পৃথিবীতে একমাত্র কুচকাওয়াজের দৃশ্যের সঙ্গেই সালাতের বাহ্যিক দৃশ্যের মিল রয়েছে, আর কোনো ধর্মের উপাসনা বা জগতের আর কিছুর সঙ্গে নেই। এই মিলের কারণ, উভয়ের উদ্দেশ্য এক। সালাতেরও মূল উদ্দেশ্য মো’মেনদেরকে একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীরূপে গড়ে তোলা। সালাতের শিক্ষা হচ্ছে, মো’মেনরা তাদের বাস্তব জীবনেও সালাতের মডেল অনুসরণ করে একজন নেতার (আমির) নেতৃত্ব মেনে নিয়ে তাঁর পিছনে ঐক্যবদ্ধ, সদা-সতর্ক ও সুশৃঙ্খলভাবে থাকবে এবং তার প্রতিটি হুকুম (কমান্ড) রুকু সেজদার মতো বিনাবাক্যে সঙ্গে সঙ্গে পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। সালাতের মাধ্যমে আরো অসংখ্য গুণাবলি সৃষ্টি হয় যেমন, ভোরে ওঠার অভ্যাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তীতা, ভ্রাতৃত্ব, একাত্মতা, দৃঢ়তা, নিষ্ঠা এবং মনোসংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। কেবল বাহ্যিক গুণাবলিই নয়, সালাতের মাধ্যমে একজন মো’মেন আধ্যাত্মিকভাবেও শক্তিশালী হয়, যা তাকে আল্লাহর রাহে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে। এভাবেই সালাত জেহাদের শারীরিক, মানসিক, ও আত্মিক প্রশিক্ষণ হিসাবে কাজ করে। এই উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে যতই নামাজ পড়া হোক সেটার কোনো ফায়দা নেই। কেননা উদ্দেশ্যহীন যে কোনো কাজই অর্থহীন।
এভাবেই ইসলামের প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যগুলো জেনে যদি আমল করা হয় তাহলে সেই আমল গৃহিত হবে। মনে রাখতে হবে, ইসলামের প্রতিটি আমলের উদ্দেশ্য পার্থিব অর্থাৎ এই দুনিয়ার জন্য। কারণ আল্লাহ দীন পাঠিয়েছেন আমাদের দুনিয়ার জীবনকে সুশৃঙ্খল ও শান্তিময়ভাবে পরিচালনার জন্য, তাই এর বিধানগুলো পরকালের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু আমরা ভুলভাবে ধরে নিই যে, সব আমল শুধুমাত্র সওয়াবের জন্য এবং পরকালের পুরস্কারের জন্য। অবশ্যই আল্লাহ পরকালে প্রতিটি আমলের পুরস্কার দেবেন, কিন্তু প্রতিটি আমলের সুস্পষ্ট ও পার্থিব উদ্দেশ্য আছে। আর সকল আমলের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হলো আমাদের পৃথিবীর জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। (চলবে…)
[লেখক: রিয়াদুল হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট; ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬১৭-৩২৯৩৯২]


















