শামীমা অবন্তি:
বিশ্ব পরিস্থিতি এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশ বিভিন্ন কারণে ভয়াবহ সংঘাতে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইজরাইল জোটের মধ্যকার যুদ্ধে ইতোমধ্যে ২২০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধের একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে আর এর ফলে বিশ্ববাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব বাংলাদেশের তেলের বাজারেও পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে যে, পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তাদের যুদ্ধ নির্ভর অর্থনীতি (War Economy) টিকিয়ে রাখতে নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র সৃষ্টি করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দক্ষিণ এশিয়াও (South Asia) তাদের অশুভ দৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান করছে। বিশ্ব পরিস্থিতি ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোতে চলমান অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনা করলে স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, তাদের কুপরিকল্পনা থেকে দক্ষিণ এশিয়াও আর নিরাপদ নয়। কাজেই বর্তমান সময়ের বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় (Multi polarity) যদি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের রক্ষা করতে চায় তাহলে তাদেরকে একসাথে পুরো দক্ষিণ এশিয়াকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে; শুধুমাত্র নিজ দেশের উপর মনযোগ দিয়ে আসন্ন সংকট মোকাবেল করা সম্ভবপর হবে না।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সেখানে দুই প্রতিবেশী দেশ পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যাদের মধ্যকার ইতিহাস, সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল অনেক। এমনকি ভাষা ও ধর্ম বিবেচনা করলেও প্রায় একই রকম। কিন্তু যখন যুদ্ধে বিভীষিকা শুরু হয় তখন মানবতার সাথে সাথে ইত্যাদি বিষয়গুলোও বারুদের গন্ধে, বোমার বিস্ফোরনে চাপা পড়ে যায়। এমন এক পরিস্থিতি যাতে দক্ষিণ এশিয়াতে না হয় তার জন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
প্রায় প্রাচীনকাল থেকেই এ উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশেই বসবাস করেছে। উভয় ধর্মের অনুসারীরাই আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান অর্থাৎ এক স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে; ইহকাল-পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম, স্বর্গ-নরক, পাপ-পুণ্য ইত্যাদিতে বিশ্বাস রাখে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আশংকা হয় সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো অস্ত্রের বাজার রমরমা রাখার জন্য এ দক্ষিণ এশিয়াতেও যুদ্ধ শুরু করতে চায়। যুদ্ধ মানেই এমন এক চোরাবালি যেখান থেকে আর বের হয়ে আসা যায় না। একবার এখানে আটকে গেলে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। তাই কোনোভাবেই এই অঞ্চলে যুদ্ধ, সংঘাত এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

সরকার পরিবর্তানের সময়, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচন এলেই এক ধরনের নোংরা রাজনীতি দেখা যায়। বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় হিন্দুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে তারা কাকে ভোট দিবেন। সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে, এক হিন্দু নারী নির্বাচনের আগে বলছিলেন যে বিএনপিকে ভোট দিলেও হিন্দুদের দোষ, আবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিলেও হিন্দুদের দোষ! আবার ঠিক একই রকম মনোভাব ভারতের মুসলমানদের। তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যায় নির্বাচন এলেই; তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষই মুসলামনাদের তাদের দলকে ভোট না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে। যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ নেয়।
ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোট পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক স্টান্টবাজির নামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। আবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও দেখা যায় ভারতবিদ্বেষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার স্পষ্ট উদাহরণ এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। বাংলাদেশে ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে ভারতের ঘরোয়া লীগে সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও খেলতে দেয়া হয়নি। এখন এ ধরনের আচরণকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কীইবা বলা যায়? আমরা তাদের চেতনায় আঘাত করব, তারাও আমাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, আমরা এখানে ভারতের হাই কমিশন ঘেরাও করব, তারা আমাদের হাইকমিশনে পাথর ছুড়ে মারবে; আমরা নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করব আর তারা আমাদের সরকার প্রধানের কুশপুত্তলিকা দাহ করবে- অর্থাৎ এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে এর শেষটা যে ভয়ংকর তা সচেতন পাঠকমাত্রই উপলব্ধি করতে পারবেন। এসকল ঘটনা আসলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সীমান্তে অসহিষ্ণুতা তৈরি করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের রাস্তাকে উন্মুক্ত করে।
ভারত আশঙ্কা করে যে তাদের সেভেন সিস্টার্স আলাদা করার জন্য আশেপাশের রাষ্ট্রগুলো চীনের সাথে মিলে ষড়যন্ত্রে অংশ নিবে। ‘চিকেন নেক’- অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে নেপাল মধ্যকার ১৩ থেকে ১৫ কি.মি. সরু করিডোর, যা চীন বহু আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছিল। চীনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সেখানে সংঘাত এখনও চলমান। তখন অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশের কিছু ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে হুমকির সুরে বলেছেন যে ‘চিকেন’স নেক’ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে, এবং সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে। এ ধরনের বক্তব্য দুই পাশ্ববর্তী দেশের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরানো ছাড়া ভালো কিছু আনতে পারেনি এবং ফলে দু’ দেশের মধ্যে ভূ-রাজনীতিকে আরো জটিল অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সস্তা কাদা ছোঁড়াছুড়ি তো রয়েছেই। প্রতিনিয়ত ভারতের মিডিয়াগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী ভারতের বিরুদ্ধে এ কাদা ছোঁড়াছুড়ি করেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান তাই বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে যে, ইসলামে বর্ণবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নিষিদ্ধ। কোর’আন অনুযায়ী আল্লাহর দৃষ্টিতে মানবজাতি দুই ভাগে বিভক্ত, মো’মেন ও কাফের- বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, শান্তি স্থাপনকারী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী। সহজ কথায়, সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে ভৌগলিক পরিচয় অর্থাৎ কেউ পাকিস্তানি, ভারতীয় নাকি বাংলাদেশী তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না, ভৌগলিক সীমানার উপর নির্ধারিত এ অন্ধ জাতীয়তাবাদের কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল। হিটলার ও মুসোলিনি ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং জার্মান জনগণকে বোঝানো হয়েছিল যে তারাই শ্রেষ্ঠ জাতি আর তাই তারাই পৃথিবী শাসন করার একমাত্র যোগ্য। কিন্তু ইসলাম কখনোই এ ধরনের ভৌগলিক সীমানার উপর নির্ধারিত অন্ধ জাতীয়তবাদকে বৈধতা দেয় না।
সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিধর অস্ত্র ব্যবসায়ী রাষ্ট্রগুলো বহু আগে থেকেই অস্ত্র বাণিজ্যের উপর নির্ভর করে টিকে আছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র, বুলেট এবং যুদ্ধবিমান নির্মাণ করে। সংবাদমাধ্যমে সূত্র বলে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক অস্ত্র ও বিমান কেনার জন্য সৌদি বাদশাহকে বাধ্য করেছিলেন। এই ঘটনাটিকে তার অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আজ বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশ যেমন আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং স্পেন প্রধানত অস্ত্র উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নির্ভর করে তাদের অর্থনীতি ও প্রভাব বজায় রেখেছে। তাই প্রতিনিয়ত তাদের নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন। তাই আমরা চাই না দক্ষিণ এশিয়া নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হোক।
অতএব আমাদের এখন সুচিন্তিত উপায়ে এগিয়ে আসতে হবে। পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নীল নকশা নস্যাৎ করার জন্য আমাদের, হেযবুত তওহীদ- এর কাছে একটি আদর্শ রয়েছে, যে আদর্শ আমরা বিগত ৩১ বছর ধরে বিভিন্নভাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করছি। আমরা যে মূল ভিত্তির কথা বলছি সেটি হেদায়াহ (জরমযঃ উরৎবপঃরড়হ), অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া সঠিক পথনির্দেশনা। আমরা যদি আল্লাহ প্রদত্ত সঠিক দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি তবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ অচিরেই দূর করা সম্ভব হবে; জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দূরীভূত হবে; পারস্পরিক দূরত্ব কমে যাবে; নতুন বাণিজ্যের দিক উন্মোচিত হবে; পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলি পরাভূত হবে এবং সর্বোপরি দক্ষিণ এশিয়া একটি শক্তিশালী ব্লকে পরিণত হবে।
একটি সহজ সত্য আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। ভারতে যে নদী গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয় সে নদীই বাংলাদেশে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়। উভয় নদীর পানি শেষে বঙ্গোপসাগরে মিশে। তাই প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক এ সহাবস্থানের মতই আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হওয়া উচিত। ভুললে চলবে না, আমরা সকলেই হিমালয়ের পাদদেশ এক প্রাচীন সভ্যতার অংশ। চীন কমিউনিস্ট বিপ্লব করে ধর্মকে সামষ্টিকভাবে বাদ দিয়েছে কিন্তু আমরা ধর্মকে বাদ দিইনি। আমরা ধর্মকে বাদ দেব না, বরং আমাদের ধর্মের প্রকৃত রূপকে ধারণ করতে হবে। কারণ ধর্মের প্রকৃত রূপ আমাদেরকে মানবতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আমাদেরকে চরমপন্থার বদলে উদারনীতি শেখায়, মানুষ ও মানবজাতির কল্যাণ করা শেখায়। তাই আমাদেরকে ধর্মের প্রকৃত এ শিক্ষার উপর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আমরা হেযবুত তওহীদ ধর্মের সঠিক আদর্শের উপর ভিত্তি করে সামষ্টিক জীবনের প্রয়োগের জন্য যে জীবনব্যবস্থার প্রস্তাব করছি সে জীবনব্যবস্থা যদি জনগণ গ্রহণ করে তবে তারা প্রত্যেকে ভ্রাতৃপ্রতিম এক মানবিক সত্ত্বায় পরিণত হবে। তারা সকলেই এ সত্যকে ধারণ করতে পারবে যে ধর্মের ভিত্তিতে, ভৌগলিক জাতীয়তার ভিত্তিতে, স্বার্থোদ্ধারের জন্য বিভেদকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। বরং এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী হিসেবে, একই আদি পিতা-মাতার বংশধর হিসেবে এক বৃহত্তর জাতি গঠন করতে হবে। যদি সত্যিকার অর্থেই তারা এ আদর্শকে ধারণ করতে পারে তবে তারা এক একজন ন্যায়ের মূর্তপ্রতিকে পরিণত হবে, যাবতীয় অন্যায়ের কাছে তারা কখনোই নতি স্বীকার করবে না। তখন ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার ভ্রান্তধারণার উপর ভিত্তি করে যে সকল বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ প্রচলিত আছে সেগুলো উঠে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্থান, বৃহৎ স্বার্থে লাভবান হতে পারবে।
বিগত বছরগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যায় এ সকল নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আমাদের কতটা ক্ষতি করেছে। ’৭১ এর চেতনাকে পুঁজি করে এক প্রকার নোংরা রাজনীতি চলেছে এ দেশে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এ ধরনের মনোভাব কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদেরকে এ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে চলবে না যে আমাদের ইতিহাস-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একই সুতোয় গাঁথা। আমরা অতিতেও পরষ্পরের উপর নির্ভরশীল ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও বৃহৎ স্বার্থের জন্য আমাদেরকে পরষ্পরের সাথে সম্পৃতি বজায় রাখতে হবে।
অতএব, দক্ষিণ এশিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য এখনই আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আমরা, হেযবুত তওহীদ, চাই দক্ষিণ এশিয়ার চলমান এ উত্তেজনা শান্ত হোক। এ জন্য আমরা আহ্বান করব বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-নেপাল-শ্রীলঙ্কা অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশের একত্রে সংলাপে বসতে হবে। প্রতিটি দেশ নিজেদের লাভকে প্রাধান্য না দিয়ে সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দিবে, এ পুরো অঞ্চলের উন্নতি ও প্রগতি কথা চিন্তা করে খোলাখুলিভাবে মতামত প্রকাশ করবে। আমরা যদি এখনই সম্মিলিতভাবে দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি সিদ্ধান্তে না আসতে পারি তবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যাবাদীদের ঘুঁটিতে পরিণত হয় ধ্বংস হতে খুব বেশি সময় লাগবে। আমরা, হেযবুত তওহীদ, এ মিলনমেলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই।
আমরা আশা করি, জনগণ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের এ প্রস্তাবে এগিয়ে আসবে। পশ্চিমা সভ্যতার ব্রিটিশ ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো একসময় এ ভারত উপমহাদেশকে শোষণ করেছে। তারা চলে যাওয়ার পরও আমাদের উপর নব্য ঔপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছে। তাই নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য আমারা তাদের দ্বারস্থ হতে পারি না। তাই আমরা, হেযবুত তওহীদ, পুরো জাতিকে আহ্বান করব আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করার জন্য। আমরা যদি নিজেরাই আজ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট না হই, তবে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদি দক্ষিণ এশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের মতই এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে। তাই এখনই সময়, আমাদের, হেযবুত তওহীদ, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে গ্রহণ করা ও আমাদের এ উদ্যোগকে সুচিন্তিতভাবে বিবেচনা করা। তবেই দক্ষিণ এশিয়া একটি শক্তিশালী ভূখণ্ডে পরিণত হবে এবং আমরা সত্যিকার অর্থেই এ ভূখণ্ডে শান্তি-ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হব।
[লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]



















