ওবায়দুল হক বাদল:
দাজ্জাল ইহুদি জাতির মধ্যে থেকে উত্থিত হবে এবং ইহুদি ও মোনাফেকরা তার অনুসারী হবে [ইবনে হানবাল (রা.) থেকে মুসলিম]। ভবিষ্যদ্বাণীটি বিশ্ব নবী রহমাতাল্লিল আলামিন হুজুরে পাক (সা.) এর। বর্তমান বিশ্বের ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার দিকে তাকালে ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা পেতে বেগ পেতে হয় না।
মানবাধিকার, স্বাধীনতা এই শব্দগুলো আজ ইহুদী-খ্রিস্টান সভ্যতার আন্তর্জাতিক রাজনীতির হাতিয়ার মাত্র। বাস্তবতা হলো জোর যার মুলুক তার। সরলের উপর ধূর্তের প্রতারণা, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলছে নির্বিচারে। মুসলমান নামক জাতির অবস্থা আরও ভয়াবহ। তারা নির্বিচারে গণহত্যার শিকার হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ নারী ধর্ষিতা হচ্ছে, একটার পর একটা ভূখণ্ড বোমার আঘাতে ধ্বংস হচ্ছে।
আমেরিকার সহযোগিতায় ফিলিস্তিনের মাটিতে বছরের পর বছর ধরে হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। এক বছরে লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে তারা। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার বসতবাড়ি, মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নয় শরনার্থী শিবিরও।
মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

বসনিয়া, চেচনিয়া, কম্বোডিয়া, চিনের সিনজিয়াং, ভারতের হয়দ্রাবাদ, মিয়ানমারের রাখাইন, সোভিয়েত শাসনে মধ্য এশিয়া, আফ্রিকার জোনোসাইড ও নারী নির্যাতনের কথা মনে উঠলে গা শিউরে ওঠে। মানবতাবিরোধী এই অপরাধগুলোকে গণকবর দেওয়া হয়েছে।
বিগত শতাব্দীতে এই ‘সভ্যতা’ দুইটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে চৌদ্দ কোটি আদম সন্তান হতাহত করেছে এবং তারপর থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে আরও দুই কোটি মানুষ হত্যা করেছে। আর এ নতুন শতাব্দীতে শুধু এক ইরাকেই হত্যা করেছে দশ লক্ষাধিক মানুষ। “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” এর মিথ্যা অজুহাতে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হলো। পরবর্তীতে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও, লক্ষ লক্ষ প্রাণহানির দায় কেউ নিল না। এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ ফুটে একটা কথা বলার সাহস করল না।
আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধ শেষে রেখে যাওয়া হলো ভাঙা রাষ্ট্র, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা। লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন এই তালিকা দীর্ঘ এবং প্রতিটি নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রক্ত, অশ্রু, ধ্বংস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ঐতিহাসিক উপাখ্যান।
চলমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বাচ্চাদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে দুই শতাধিক নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেছে এই সভ্যতারই দুই চিত্রনায়ক ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমেরিকা-ইসরায়েল। এর থেকে নৃশংসতা, মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কি হতে পারে!
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম দফার হামলায় এক মিনিটের মধ্যে ৪০ জন শীর্ষ ইরানি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। এক মিনিটও লাগল না! খামেনিসহ তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ৪০ জনকে মেরে ফেলল! আল্লাহ যেমন আপনার আমার জান এই মুহূর্তে কবচ করতে পারে তেমনি তারাও পারে। তারা যদি টার্গেট করে তাহলে অবশ্যই পারে। আল্লাহ চান কি না চান না সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
ইহুদি-খ্রিষ্টানদের এই দানবীয় ‘সভ্যতা’ পৃথিবীর সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। স্বাধীন-সার্বভৌম স্বত্ত্বাকে বিকিয়ে দিয়ে যারা তার পায়ে সেজদাবনত হচ্ছে, প্রভু বলে স্বীকার করে নিচ্ছে কেবল তাদেরকেই সে নিরাপত্তা দিচ্ছে। কেউ যদি তাকে অমান্য করে তাকেই ভোগ করতে হচ্ছে পৈশাচিক যন্ত্রণা। তার শহর, নগর, বন্দর ধ্বংস করে দিচ্ছে। নিষ্পাপ শিশুদের বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল, উপসনালয়, শরনার্থী শিবির কিছুই রেহাই পাচ্ছে না তার হাত থেকে।
দাজ্জাল সম্পর্কে বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সে আল্লাহর বদলে নিজেকে মানবজাতির প্রভু (রব) বলে দাবি করবে। দাজ্জালের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দুইটি জিনিস থাকবে। সে যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম, আর যেটাকে জাহান্নাম বলবে সেটা হবে মূলত জান্নাত। যারা তাকে প্রভু বলে মেনে নেবে তাদেরকে সে তার জান্নাতে স্থান দেবে। তার কাছে রেযেকের বিশাল ভাণ্ডার থাকবে। যারা তাকে রব বলে মেনে নেবে তাদেরকে সে সেখান থেকে দান করবে। আর যারা তাকে রব বলে অস্বীকার করবে, অর্থাৎ তার আদেশমতো চলবে না, তাদের সে তার ভাণ্ডার থেকে দান তো করবেই না বরং তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (Sanction) ও অবরোধ (Embargo) আরোপ করবে। রসুল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে এই সভ্যতা।
এই দানবীয় শক্তিটি পৃথিবীতে কয়েকশ বছর ধরে দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মহীন বস্তুবাদী এক সভ্যতা গড়ে তুলেছে সে। তাকে যারা প্রভু বলে শিকার করে বিনাবাক্যে আনুগত্য করে তাকে সে ঘাটায় না। অপকর্মের সহযোগী ও সমর্থন প্রদানকারীদের সে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। তাদের জন্য সে দুনিয়া জান্নাতসম করে রেখেছে। কিন্তু তার আনুগত্য করতে যে অস্বীকৃতি জানায় তাকে সে একঘরে করে রাখে। প্রথমে স্যাংকশান, এমবার্গো দিয়ে কোণঠাসা করে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নামে সাধারণ মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও চিকিৎসাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়। তারপরেও মাথানত না করলে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলে।
ইতিহাসের নিকৃষ্টতম দুঃশাসকদের ছাড়িয়ে গেছে ইহুদী-খ্রিস্টান দানবীয় শক্তিটি। সম্প্রতি আমেরিকার অন্যায্য হুকুম না মানার কারণে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে নিয়ে গেল। ইরানের রেজিম চেঞ্জ করতে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিল। খামেনিকে হত্যার পর স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প বলল, ইরানে ইসলামী শাসনতন্ত্র থাকলে তার কোনো সমস্যা নেই। অগণতান্ত্রিক সরকারেও তার মাথ্যা ব্যথা নেই। ব্যক্তি হলো বিষয়। অর্থাৎ ক্ষমতায় যে থাকবে সে তাদের অনুগত হতে হবে। তাকে প্রভুর মতো মানতে হবে। না মানলেই চলছে স্ট্রিম রোলার।
ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার এই দানবীয় শক্তিটি যখন বিশ্বজুড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে তখন মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক বিচারবিভাগ যেন চোখ-কান বন্ধ করে মেডিটেশন করছে। অবশ্য সেসবও নিয়ন্ত্রণ করে এই দানবীয় দাজ্জালীয় শক্তিটিই। কারণ বর্তমান বিশ্বের এমন কোনো বিষয় নেই যা তার অগোচরে, এমন কোনো স্থান নেই যা তার নখদর্পনে নেই। অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক শক্তি, সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য।
ইহুদী-খ্রিস্টান দাজ্জালীয় সভ্যতার ব্যাপারে রসুল (সা.) ঠিক এই কথাগুলোই বলেছিলেন- দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি পৃথিবীর সমস্ত মাটি ও পানি (ভূ-ভাগ ও সমুদ্র) আচ্ছন্ন করবে। সমস্ত পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ চামড়া দিয়ে জড়ানো একটি বস্তুর মতো তার করায়ত্ত হবে। [মুসনাদে আহমদ, হাকীম, দারউন নশুর]
আফসোসের বিষয় হলো- আরব দেশগুলো মুসলিম হওয়া সত্ত্বেয় এই শক্তিটির অনুগত দাসে পরিণত হয়েছে। পেট্রোডলার চুক্তির মধ্য দিয়ে সে আনুষ্ঠানিকভাবে যেন তাদের প্রভু বলে স্বীকার করে নিয়েছে। এক এক করে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ফিলিস্তিন ধ্বংস করে দিল অথচ আরববিশ্ব যেন মুখে লাগাম দিয়ে বসে ছিল। উল্টো অভিযোগ আছে যে, এরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো কোনো যুদ্ধে অর্থের যোগান দিয়েছে। ইরানের হামলায় আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ফায়দা নিচ্ছে আমেরিকা। আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ করে হামলা করছে ইরান। এতে তারা ফুঁসে উঠছে। তাদের প্রভুদের উস্কানি দিচ্ছে ইরানকে পিষে ফেলার।
আরবে এমন কোনো স্থান থাকবে না যা দাজ্জালের পদতলে না আসবে বা সেখানে তার প্রভাব ও প্রতিপত্তি না থাকবে। [বুখারীও মুসলিম] এই ভবিষ্যদ্বাণীটিকে বাস্তব রূপ দিল তারা।
দাজ্জালীয় শক্তির দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার মুখোশ
এই দানবীয় শক্তিটি নিজেদের “সভ্যতার রক্ষক” হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তাদের নীতির প্রয়োগে দ্বিচারিতা স্পষ্ট। একদিকে তারা মানবাধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে মিত্র রাষ্ট্রের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে উপেক্ষা করে, সহযোগিতা করে। এক দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সামরিক অভিযান চালানো হয়, অন্য দেশে স্বৈরশাসককে সমর্থন দেওয়া হয় যদি সে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলে অর্থাৎ তার প্রভুত্ব বরণ করে নেয়। এই দ্বিমুখী নীতি কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। আন্তর্জাতিক আইন এখানে এই সভ্যতার হাতিয়ার, যা তারা তাদের সুবিধামতো ব্যবহার করে। কিন্তু প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে ইতঃস্তত করে না।
ভোগবাদী সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এই সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এপস্টেইন ফাইলস ফাঁস করেছে এই দাজ্জালীয় সভ্যতার নিয়ন্ত্রকদের চরিত্র। ধর্মহীন, আত্মাহীন বস্তুবাদী এই সভ্যতা ভোগবাদের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে।
দাজ্জালীয় সভ্যতার মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড
ইহুদী-খ্রিস্টান সভ্যতায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই দানবীয় শক্তিটির এখন যৌবনকাল চলছে। সে এখন চূড়ান্ত বেপরোয়া, কাউকে তোয়াক্কা করে না সে। কোনো আইন-আদালতের ধার ধারে না। তার প্রভুত্ব স্বীকার করতে কেউ ইতঃস্তত করলে তার উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে তার কারো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। মানবতাবিরোধী বিধ্বংস চালালেও কেউ তার কাছে কৈফিয়ত চাইতে সাহস করে না। সে যাকে খুশি “টার্গেট” করছে। যেখানে খুশি সেখানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। হাসপাতাল বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে-এগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কোলাটরেল ড্যামেজ নয় বরং ইনটেনশনালি করা হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ আজ আর গোপন নয় বরং প্রকাশ্যে ঘটছে। নৃশংসতা চালিয়ে নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করছে। তার রচিত বিশ্বে শিশুরা জন্ম নিচ্ছে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে, বড় হচ্ছে বুলেট আর বোমার শব্দ শুনে শুনে। অথচ এই ইহুদী-খ্রিস্টান দানবীয় সভ্যতাটিই নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে। তারা মানবতার ছবকও দেয়।
ইহুদী-খ্রিস্টান সভ্যতার প্রতারণার ফাঁদে বিশ্ব
ইহুদি-খ্রিস্টান দাজ্জালীয় এই সভ্যতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতারণা। সত্যকে মিথ্যা, আর মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করায় সে বেশ পটু। বাইরে থেকে দেখতে ভদ্র, সভ্য, সাধু কিন্তু ভেতরটা কুৎসিত, মিথ্যা আর প্রতারণায় ভরা। মানুষকে স্বাধীনতার কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে তাকে দাসত্ব বরণ করতে বাধ্য করা হয়। ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়, কিন্তু তা প্রয়োগ করা হয় বেছে বেছে। এজন্যই রসুল (সা.) একে মাসীহ উল কায্যাব বলে অভিহিত করেছেন। এই কায্যাব, পারমাণবিক শক্তিধর এই দানবীয় শক্তি মানবজাতিকে ধ্বংস ও পতনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এই কারণেই রসুল (সা.) এই সভ্যতাটিকে চাকচিক্যময় প্রতারক বলে অভিহিত করেছেন।
আল্লাহর কাছে আশ্রয়
রসুল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক দাজ্জালীয় সভ্যতার পদতলে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের করুণ পরিণতি নেমে এসেছে (বোখারী, মুসলিম)। মহানবী (সা.) এই দাজ্জালের আবির্ভাবকে আদম (আ.) থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুতর ও সাংঘাতিক ঘটনা বলে চিহ্নিত করেছেন। মানবসভ্যতার ইতিহাসে ফেরাউন, নমরুদদের মতো অনেক দুঃশাসক এসেছে। কিন্তু এই দাজ্জালীয় সভ্যতার মতো এত ব্যাপক, এত সংগঠিত, এত শক্তিধর এত প্রলয়ঙ্করী ভয়ঙ্কর দুঃশাসক পৃথিবী আগে দেখেনি। এই চাকচিক্যময় দানবীয় বস্তুবাদী সভ্যতা নৃশংসতা, বৈষম্য, যুলুম, নির্যাতনে পৃথিবীর অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এজন্যই বোধ হয় খোদ রসুল (সা.) এই দুঃশাসনের যুগের হাত থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ (আশ্রয়) চেয়েছেন। আল্লাহ আমাদের এই দানবীয় শক্তির ব্যাপারে সচেতন হবার এবং এর বিরুদ্ধে মুসলমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হবার তওফিক দিন। আমিন।
[লেখক: লেখক ও সাংবাদিক]



















