পশ্চিমা প্রিজমে দেখলে হেযবুত তওহীদকে চেনা যাবে না -রুফায়দাহ পন্নী, উপদেষ্টা, দৈনিক বজ্রশক্তি

৩০ মে ২০১৫ ০৬:৪৩ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

বর্তমানে ইসলামের অনেকগুলো প্যাটার্ন বা রকমফের আমরা দেখতে পাই। একেক দেশে একেকরকম ইসলামের চর্চা হয়। ইন্দো-মালয় অঞ্চলে একরকম, আরবে একরকম, ইরানে একরকম, আফ্রিকায় একরকম, ভারতে একরকম, বাংলাদেশে আরেকরকম। আমাদের এখানে ইসলামের নামে অনেক কিছুই চলে যা আরবেরা জানেই না। অর্থাৎ হালবিহীন নৌকা যেমন যেদিকের বাতাস পায় সেদিকেই ঘুরে যায় ইসলামের অবস্থাটা সেই রকম দাঁড়িয়েছে। ইসলামের নামে অনেক যুক্তিহীন অবৈজ্ঞানিক চর্চা, কুসংস্কার, ধ্যান ধারণা ইত্যাদি চলছে যা দেখে অনেক মানুষ কেবল ধর্ম অস্বীকারকারী নয়, ধর্মবিদ্বেষীই হয়ে যাচ্ছেন। এ হলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা, এর বাইরে যারা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের মধ্যেও অনেকগুলো ডাইমেনশন আছে। ইসলামী দলগুলোর ক্ষেত্রে মতবাদ ও কৌশলগত শ্রেণিভেদে যে শব্দগুলো আমরা পশ্চিমা মিডিয়ায় বেশি ব্যবহৃত হতে দেখছি তার কয়েকটি হচ্ছে:
১. মিলিট্যান্ট ইসলাম, ২. পলিটিক্যাল ইসলাম, ৩. মডারেট ইসলাম, ৪. লিবার‌্যাল ইসলাম, ৫. সুফিস্টিক ইসলাম, ৬. এক্স-ট্রিমিস্ট ইসলাম, ৭. কনজারভেটিভ ইসলাম, ৮. র‌্যাডিকেল ইসলাম, ৯. ফান্ডমেন্টালিস্ট ইসলাম, ১০. জিয়োলট্রিক ইসলাম, ১১. প্যান ইসলামিজম, ১২. ফ্যানাটিক ইসলাম, ১৩. কম্যুনিস্ট ইসলাম
এই প্রকারভেদের কোনো কোনোটির মধ্যে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম, কোথাও মোটা। যে কোনো ইসলামপন্থী ব্যক্তি ও আন্দোলনকে এর যে কোনো পর্যায়ভুক্ত (ঈধঃবমড়ৎরবং) করে বিবেচনা করা হয়। এখানে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, আল্লাহর রসুল ও তাঁর সাহাবিরা উপরের কোন শ্রেণিভাগে পড়েন? প্রত্যেক দলের লোক তাদের নিজেদের দলেই আল্লাহ-রসুলকে টানতে চাইবেন, তাই এ প্রশ্নের সমাধান হওয়া অতীব জরুরি হলেও সহজ নয়।
এই প্রকারভেদগুলো কীভাবে আসলো, কারা করল, কখন থেকে এগুলো শুরু হলো? এই ইতিহাস সবাই জানেন যে, ইসলামপূর্ব আরব জনগোষ্ঠী কেমন ঐক্যহীন, বিশৃঙ্খল, শিক্ষাদীক্ষাহীন, পারস্পরিক বংশানুক্রমিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত, হতদরিদ্র অর্থাৎ এক কথায় দারুণ অন্যায়-অবিচার, বর্বরতায় পূর্ণ ছিল। এমন একটি অধঃপতিত জনগোষ্ঠীকে আল্লাহর রসুল এমন একটি মহান জাতিতে পরিণত করলেন যারা পরবর্তী মানবজাতির ইতিহাসের গতিই বদলে দিল। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সামরিক শক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সমৃদ্ধি এক কথায় সর্ব বিষয়ে তারা অন্য জাতির শিক্ষকের আসনে প্রতিষ্ঠিত হল। এই ধারাটি অব্যাহত রাখার দায়িত্ব ছিল পরবর্তী উম্মতে মোহাম্মদীর বা পরবর্তী প্রজন্মগুলোর। কিন্তু তারা অর্ধ-দুনিয়ার অধীশ্বর হয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে গেল। আর্ত-অসহায় মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রাম ত্যাগ করে তারা পারস্য ও রোমান রাজা বাদশাহদের অনুকরণে মালিক-সুলতান সেজে রাজত্ব করতে লাগল। জাতি হয়ে গেল স্থবির। বদ্ধ পুকুরের জল যেমন দূষিত হয় তেমনি ইসলামও দূষিত হতে শুরু করল। প্রায় এক হাজার বছর এই পচনক্রিয়া চলল।
এই বি¯তৃত সময়কালে একদিকে মোফাসসের, আলেম, ফকীহ, বিবিধ মজহাবের ইমাম, মোহাদ্দেস, তার্কিকদের অতি বিশ্লেষণে ইসলাম জটিল, দুর্বোধ্য মাসলা মাসায়েলের জালে বন্দী হয়ে সাধারণ মানুষের জ্ঞানের বাইরে চলে গেল, অপরদিকে পীর, মাশায়েখ ও বিকৃত সুফিবাদের প্রভাবে উম্মাহর বহির্মুখী চরিত্র অন্তর্মুখী, ঘরমুখী হয়ে গেল। তারা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামী ও প্রতিবাদী চরিত্র হারিয়ে নির্বিরোধী সুফি, মুত্তাকি, পরহেজগার বান্দা হওয়ার দিকে মুখ ফেরাল। অর্থাৎ এই জাতির ধর্মই (গুণ বা বৈশিষ্ট্য) পাল্টে গেল। এরই মাঝে ইসলামের যে একক জাতিসত্ত্বা রসুলাল্লাহ নির্মাণ করে গিয়েছিলেন তার ধারণাও লুপ্ত হয়ে গেল। শত সহস্র ফেরকা, মজহাব, তরিকায় বিভক্ত হয়ে জাতিটি আল্লাহর দৃষ্টিতে আর মো’মেন রইল না, উম্মতে মোহাম্মদী রইল না, হয়ে গেল উমাইয়া, আব্বাসীয়, ফাতেমীয়, সেলজুক, মামলুক, তুর্কী, মোগল, পাঠান ইত্যাদি বংশীয় রাজতান্ত্রিক শাসক ও শাসিত। এই এক হাজার বছরে তারা যত যুদ্ধ করেছে তার প্রায় সবই করেছে সাম্রাজ্যবিস্তার ও পরসম্পদ লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে যা ছিল আল্লাহর হুকুম ও রসুলাল্লাহর নীতিমালা পরিপন্থী। ইসলামের সবচেয়ে বেশি বদনাম হলো এজন্য যে, ঐ সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতালিপ্সু ভোগী রাজা বাদশাহরা নিজেদেরকে ধর্মে মুসলিম বলে পরিচয় দিতেন ফলে শেয়াল কুকুরের মতো সেই স্বার্থের হানাহানির ইতিহাসকেই আজ ইসলামের ইতিহাস বলে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের শিক্ষিত শ্রেণি ইসলাম সেই পারস্পরিক কামড়া-কামড়ি, ধর্মের নামে অধর্ম অনাচার, আর ভোগবিলাসের ইতিহাস পড়ে ইসলাম সম্পর্কে একটি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছেন।
প্রাকৃতিক নিয়মেই সব কিছুর একটা শেষ আছে, পচনের পর পতন আছে। এই মুসলিম দাবিদার কার্যত কাফের (সত্য প্রত্যাখ্যানকারী) জনগোষ্ঠীরও পতন ঘটল অত্যন্ত করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে। ইউরোপীয় জাতিগুলো আল্লাহর শাস্তিরূপে এ জনগোষ্ঠীর উপর আপতিত হলো। তারা আটলান্টিকের তীর থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত তদানীন্তন অর্ধ পৃথিবীতে বিরাট সংখ্যা নিয়ে বিরাজিত ঐক্যহীন, লক্ষ্যহীন, বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন উম্মতে মোহাম্মদী দাবিদার কিন্তু কার্যত কাফের জনগোষ্ঠীকে সামরিক শক্তি দিয়ে পদানত করল। এ জাতি যেন কোনোদিনও আর মাথা তুলতে না পারে, পশ্চিমা সভ্যতাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ ও নিজেদেরকে নিকৃষ্ট বলে ভাবতে শেখে, দাসত্বকেই মর্যাদা বলে ভাবতে শেখে, ঔপনিবেশিক চাবুকের বিরুদ্ধে যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সেজন্য তারা একাধারে দুই প্রকার (মাদ্রাসা ও সাধারণ) শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করল। পরাজয়ের পর এই জাতির ভাগ্যে কী নির্মম পরিণতি নেমে এসেছিল সে ভয়াবহ, লোমহর্ষক ইতিহাস, যা বর্ণনা করতে গেলে হাজার হাজার পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু এক ক্ষুদ্রাংশের বর্ণনাও শেষ হবে না, সেই ঔপনিবেশিক নিষ্ঠুরতার ইতিহাস না শেখানো হচ্ছে আলেমদের, না শেখানো হচ্ছে শিক্ষিতদের। একটা পর্যায়ে এসে এ জাতির কিছু লোক গোলামির হাত থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো। তারা কেউ জাতীয়বাদের চেতনায়, কেউ ধর্মীয় চেতনায় বিভিন্ন দল গড়ে তুলতে লাগল। এগুলির মধ্যে ছোট ছোট দল ও সংগঠনও আছে আবার মিশরের ইখওয়ানুল মুসলেমিন ও জেহাদ, আলজেরিয়ার ইসলামিক সালভেশন ফ্রন্ট ও জাম’য়া, তিউনিশিয়ার আন-নাহদা, মালয়েশিয়ার আল আরকাম, ইন্দোনেশিয়ার দারুল ইসলাম ও এই উপমহাদেশের জামায়াতে ইসলামীর মত সংগঠনও আছে। এদের কোনোটি পাশ্চাত্যের ছকে বাঁধা রাজনীতিক পদ্ধতিতে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, কোনোটি চরমপন্থা নিয়েছে। আর বর্তমানের জঙ্গিবাদ? সেটা তো রাশিয়া-আফগান যুদ্ধে মার্কিনদের সৃষ্টি করা আল কায়েদার মত দল যার সবগুলোই পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষণে গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে আছে তালেবান, বোকো হারাম, আল শাবাব, হামাস, হেযবুল্লাহ, হরকাতুল জেহাদ, লস্কর-ই-তাইয়্যেবা ইত্যাদি। আমাদের দেশেও তাদের বিভিন্ন নামে তাদের কর্মকাণ্ড আছে। এদের উদ্যোগগুলো দীর্ঘ সংগ্রামের পর ব্যর্থ হয়েছে, অনেকে এখনো চেষ্টা চালাচ্ছে, তারাও ব্যর্থ হবে। ব্যর্থতাই সেগুলোর স্বাভাবিক পরিণতি। কারণ তারা যে ইসলাম নিয়ে দাঁড়িয়েছে (বা দাঁড় করানো হয়েছে) সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়। এ কারণে আল্লাহর কোনো সাহায্য তারা পায় নি, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আল্লাহর রসুলের পক্ষেও ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। যে ‘ইসলাম’ আদৌ ইসলমাই নয়, যা ১৩০০ বছরের অতি বিশ্লেষণকারী আলেম ওলামাদের মনগড়া বিকৃত বিধিবিধানের সমষ্টি সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহ কেন সাহায্য করবেন? তাদের কারো কাছেই ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা না থাকায় তারা যেখানেই ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে সেখানেই বিবেকহীন, অমানবিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মনে ভীতি, আতঙ্ক, ইসলামের ব্যাপারে তিক্ত মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বজোড়া সেই ধর্মান্ধতার অতিরঞ্জিত বিবরণ ইসলাম-বিদ্বেষের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
দুনিয়াজোড়া শত শত ইসলামী দলকে পশ্চিমা তাত্ত্বিক, সমাজবিদ, মিডিয়া বাহিনী শ্রেণিবিন্যাস করেছে। তাদেরই অনুকরণে এ দেশের সাংবাদিক, কলামিস্ট, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিকগণও ঐ একই ফ্রেমে এদেশের সংগঠন বা আন্দোলনগুলোকে ফেলে বিচার করেন। হেযবুত তওহীদকেও সেইভাবেই বিচার করা হয়েছে। যেহেতু হেযবুত তওহীদ সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (চূড়ান্ত সত্য ও ন্যায়) প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাই হেযবুত তওহীদকেও চরমপন্থী অথবা চরমপন্থী হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য এমামুয্যামান প্রায়ই একটি উদাহরণ দিতেন। তিনি বলতেন, ধরুন- আমার আর আপনার দুজনেরই একটা করে নাক আছে, দুটো করে কান আছে, দুটো করে হাত পা আছে, এমনকি আপনার নামের সঙ্গে আমার নামেরও খানিকটা মিল আছে, দুজনেই খাই, দুজনেই ঘুমাই কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমি আর আপনি এক ব্যক্তি। কারণ আমাদের অমিলও আছে হাজারটা । জঙ্গিরাও আল্লাহ বিশ্বাস করে আমরাও বিশ্বাস করি, নিজেদেরকে রসুলের উম্মাহ দাবি করে আমরাও করি, তারা কোর’আনকে আল্লাহর কেতাব মনে করে আমরাও করি, তারা কাবাকে আল্লাহর ঘর মনে করে আমরাও করি, তারা হাশর-কেয়ামত বিশ্বাস করে আমরাও করি, এসব মিল থাকার মানেই এই নয় যে আমরা আর তারা এক হয়ে গেলাম। কারণ ঐ সংগঠনগুলোর লক্ষ্য ও আমাদের লক্ষ্য এক নয়, তাদের কর্মসূচি আমাদের কর্মসূচি এক নয়, তাদের কর্মকাণ্ড ও আমাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল ব্যবধান। তাদের আদর্শ এবং আমাদের আদর্শও এক নয়। এই পার্থক্য যে বুঝতে পারে না, সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। কোনো একটি ভূখণ্ড দীর্ঘদিন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দী, কিছুতেই স্বাধীনতা আসছে না, তখন ইসলামের সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে স্বাধীনতার যুদ্ধকে জেহাদ-কেতাল বলে চালিয়ে দিচ্ছে কিংবা একটি সরকার পতনের আন্দোলনকে সফল করার জন্য ইসলামি সেন্টিমন্টের সাহায্য নিচ্ছে। আবার তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রী করছে পশ্চিমারা। এভাবেই আসছে জঙ্গিবাদ।
অন্যান্য দলের সঙ্গে হেযবুত তওহীদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো ঐ জঙ্গি দলগুলো আসলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, কারণ ইসলাম অর্থ শান্তি। তারা চায় নারীদের বোরকা পরাতে, চায় পিটিয়ে নামাজ পড়াতে, পুরাকৃতি ভেঙে ফেলতে, শরীয়াহ আইনের নামে শিরোচ্ছেদ আর মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে, নারীদেরকে শিক্ষা ও বহির্জগতের কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করতে, পুরুষদেরকে দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করতে, গান-বাদ্য, নাটক, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, ভাস্কর্য ইত্যাদিকে নিষিদ্ধ করতে। তারা ভাবে এগুলো করলে শান্তি আসবে। কিন্তু এভাবে কোথাও শান্তি আসে নি। প্রমাণ আফগানিস্তান, আই.এস শাষিত অঞ্চল, সৌদি আরবসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো। মূল বিষয় হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব চলমান সভ্যতার সংঘর্ষে পশ্চিমা সভ্যতার বিপরীতে যৌক্তিক কারণে ইসলামকে প্রতিপক্ষ হিসাবে গ্রহণ করেছে। তারাই বিভিন্ন দেশের এই ইসলামিক দলগুলোকে ব্যবহার করছে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুসলিমদেরকে দিয়ে মুসলিমদের ধ্বংস করার জন্য এবং মুসলিম দেশগুলোতে সামরিক (জঙ্গি) আগ্রাসন চালানোকে জায়েজ করণার্থে টুইন টাওয়ার জাতীয় কিছু ধ্বংসাত্মক নাটক মঞ্চস্থ করার জন্যই এই জঙ্গিগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটিয়েছে। অস্ত্র বাণিজ্যভিত্তিক যুদ্ধ অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য জঙ্গিদেরকে পশ্চিমাদের প্রয়োজন। তাদের এ স্ব-স্বীকৃত তথ্য যা একটি ওপেন সিক্রেট তা সচেতন সকলেই অবগত আছেন। এই জঙ্গিবাদী দলগুলো জেহাদ ও কেতালের নামে সন্ত্রাস করছে, বোমাবাজি করছে আর এমামুয্যামান তাদের এই কাজগুলো কেন ইসলামসম্মত নয় সেটা তাঁর বইতে তুলে ধরছেন এবং হেযবুত তওহীদ সেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জীবনপণ সংগ্রাম করছে- এটাই হচ্ছে মোটাদাগে সেই জঙ্গি দলগুলোর সঙ্গে হেযবুত তওহীদের তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক অঙ্গনের পার্থক্য।
পক্ষান্তরে হেযবুত তওহীদ হচ্ছে সেই প্রকৃত ইসলাম যা আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী (দ.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুল-অবতারগণ নিয়ে এসেছিলেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি মানবসমাজ প্রতিষ্ঠা যেখানে মানুষের চিন্তা, কথা, পছন্দ-অপছন্দ, চলাফেরা, গবেষণার স্বাধীনতা থাকবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চূড়ান্ত উৎকর্ষ হবে কিন্তু সেগুলো ব্যবহার হবে শুধু মানুষের কল্যাণে। প্রতিটি মানুষ দয়া-মায়া, সহযোগিতা, ঐক্য-শৃঙ্খলায় পূর্ণ থাকবে। এখন যেমন পুলিশের চোখ এড়াতে পারলেই জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তখন তা হবে না, ধার্মিক ও নাস্তিক উভয়ের হৃদয়ে নৈতিকতার শক্তিশালী বোধ জাগ্রত হবে যার পরিণামে কেউ কারো অধিকারে হাত দেবে না, কাউকে দিতেও দেবে না। পরিণামে সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সমৃদ্ধি, ভালোবাসায় পূর্ণ একটি স্বর্গরাজ্য হবে এই মানবসমাজ। এটা কোনো সমাজতান্ত্রিকদের ইউটোপিয়া নয়। প্রকৃত ধর্ম দ্বারা, নবী-রসুলদের দ্বারা এমন স্বর্গরাজ্য অতীতে বার বার হয়েছে, এবার সেটাই হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করবে ইনশা’ল্লাহ। কারণ হেযবুত তওহীদ পৃথিবীতে আল্লাহর স্বাক্ষর, স্বয়ং আল্লাহ এ আন্দোলনের পরিচালক, সমগ্র মানবজাতিকে এক জাতিতে পরিণত করার জন্য আল্লাহর অভিপ্রায় বাস্তবায়িত হবে এই হেযবুত তওহীদের দ্বারা। তাই আল্লাহ প্রতি মুহূর্তে হেযবুত তওহীদকে সাহায্য করে যাচ্ছেন, এই মিথ্যা ও প্রবঞ্চনার যুগেও অকাট্য সত্যের পক্ষে উন্নতশির ও অটল রেখেছেন। তাই হেযবুত তওহীদ পশ্চিমাদের বাঁধানো কোনো ছকেই পড়বে না। হেযবুত তওহীদ কী, এমামুয্যামান কী বলতে চেয়েছেন, তা হেযবুত তওহীদেরও অনেকেই পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পারে নি। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে হেযবুত তওহীদকে আরো গভীরভাবে জানুন। যে কোনো ব্যাপারে অস্পষ্টতা থাকলে যত ইচ্ছা আমাদেরকে প্রশ্ন করুন, এনশা’আল্লাহ জবাব দেওয়া হবে। আমরা সত্য নিয়ে দাঁড়িয়েছি, আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র বক্রতা নেই এবং সত্য বলার ক্ষেত্রে আমরা দ্বিধান্বিত বা বিব্রত নই যদি তা আমাদের বিরুদ্ধেও যায়।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফেরত নিতে গড়িমসি করায় চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এক…
৫ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি

কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজের ৮ দিন, শ্রীপুরের বাড়িতে পরিবারের আহাজারি
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:রাজধানীর কলাবাগান থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার শুভ (৩২) নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।…
৪ মে ২০২৬ ঢাকা

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ

শ্রীপুরে সরকারি জায়গায় নির্মিত বিএনপির সব কার্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে তৈরি করা বিএনপির সব অস্থায়ী কার্যালয় এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ…
৩ মে ২০২৬ ঢাকা

শ্রীপুরে স্কুলের অফিস কক্ষে চুরি

শ্রীপুরে স্কুলের  অফিস কক্ষে চুরি
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে অফিস কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার  (১মে) রাতে  উপজেলার  তেলিহাটি ইউনিয়নের…
২ মে ২০২৬ ঢাকা

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ

মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথনকশা -ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ
বর্তমানে উন্নত কি অনুন্নত- সমগ্র পৃথিবীতেই এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে, হামলা করছে, দখল করছে; আর রাষ্ট্রগুলোর…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান

শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি -রিয়াদুল হাসান
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হলো আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কোভিড ১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে একের পর এক সংকটে আমাদের দেশের…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী

ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী
ইরান যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ -হাসান মাহ্দী২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই…
২ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম: ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র ইসলামই সক্ষম। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সম্মেলনে…
১ মে ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

মে দিবস উপলক্ষে বাড্ডায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের র‍্যালি

মে দিবস উপলক্ষে বাড্ডায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের র‍্যালি
মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি করেছে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকরা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত অঞ্চল…
১ মে ২০২৬ ঢাকা

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে– এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
দুনিয়াকে নরককূণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা। এই নরককূণ্ড থেকে বাঁচতে হলে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা

ফের সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব: আর কতবার সংশোধন হলে শান্তি ফিরবে পাঞ্জেরি! -কথক দা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি এ প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭ সদস্য…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব

বিশ্বপরিস্থিতি, আমাদের জাতীয় সংকট এবং মুক্তির একমাত্র পথ -মুস্তাফিজ শিহাব
বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা এক ভয়াবহ অশান্তি ও অস্থিরতার চিত্র দেখতে পাই। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ত্রাহি সুরের হাহাকার। বিশেষ করে গত…
২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

শ্রীপুরে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসির পাঁচ পরিক্ষার্থী আহত

শ্রীপুরে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসির পাঁচ পরিক্ষার্থী আহত
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরিক্ষার্থী বহনকারী সিএনজির সঙ্গে ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন পরিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি…
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা

পন্নী পরিবারের শিকড়: কররানি রাজবংশের গৌরবগাথা
রিয়াদুল হাসান গৌড়ের রাজ দরবারে চাচা কুতুব খানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সুলতান তাজ খান কররানির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যুবক ঈসা খাঁ ও ইসমাইল…
২৭ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!

সোনার মাটিতে ভিনদেশি বিষ: বাণিজ্যচুক্তির আড়ালে দেশি কৃষিকে হত্যার আয়োজন!
শাহাদৎ হোসেন:বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো এই মাটির কৃষক। কৃষকদের আমরা বলি, সব সাধকের বড় সাধক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা যে ফসল ফলায়,…
২৭ এপ্রিল ২০২৬ বিশেষ নিবন্ধ