রুফায়দাহ পন্নী:
আমার বাবা হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় এমামুযযামান উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারে ১৫ শাবান ১৩৪৩ হেজরী মোতাবেক ১৯২৫ সনের ১১ মার্চ শেষ রাতে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তেহরিক-এ-খাকসারের পূর্ব বাংলার কমান্ডার ছিলেন বাবা। পরবর্তীতে তিনি সালার-এ-খাস হিন্দ (Commander with special assignment) মনোনীত হন। ছবিতে খাকসারের ইউনিফর্ম পরিহিত বাবা (আনুমানিক ১৯৪৬ খ্রি.)।
তাঁর শৈশব কাটে করটিয়ার নিজ গ্রামে। ১৯৪২ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। কোলকাতার ইসলামিয়া কলেজে তাঁর শিক্ষালাভের সময় পুরো ভারত উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে উত্তাল আর কোলকাতা ছিলো এই বিপ্লবের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
আন্দোলনের এই চরম মুহূর্তে বাবা আল্লামা এনায়েত উল্লাহ খান আল মাশরেকীর প্রতিষ্ঠিত ‘তেহরীক এ খাকসার’ নামক আন্দোলনে যোগ দিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। সেই সুবাদে তিনি এই সংগ্রামের কিংবদন্তীতুল্য নেতৃবৃন্দের সাহচর্য লাভ করেন যাদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী, কায়েদে আযম মোহম্মদ আলী জিন্নাহ্, অরবিন্দু ঘোস, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী অন্যতম।
ছোট বেলা থেকেই তাঁর ছিল শিকারের শখ। শিকারের লোমহর্ষক সব অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা ‘বাঘ-বন-বন্দুক’ (১৯৬৪) নামক বইটি খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়।
ক্রীড়াঙ্গনেও তিনি ছিলেন একজন অগ্রপথিক। ১৯৫৬ সনে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান দলের অন্যতম রায়ফেল শুটার হিসাবে নির্বাচিত হন।
১৯৬৩ সনে এমামুযযামান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য অর্থাৎ এম.পি. নির্বাচিত হন।
তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান আবু সাঈদ চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তি তাঁর রোগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নজরুল একাডেমির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
রতনপুরে নিজের শিকার করা বাঘের সঙ্গে মাননীয় এমামুযযামান
১৯৬৩ সনে তিনি করটিয়ায় হায়দার আলী রেডক্রস ম্যাটার্নিটি এ্যান্ড চাইল্ড ওয়েলফেয়ার হসপিটাল প্রতিষ্ঠা করেন যার দ্বারা এখনও উক্ত এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। .
পরবর্তীতে তিনি সা’দাত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬ জানুয়ারী ২০১২ ঈসায়ী তিনি প্রত্যক্ষ দুনিয়া থেকে পর্দাগ্রহণ করেন।
পোষা বাঘ বিউটির সাথে মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
হেযবুত তওহীদের সদস্যদের প্রতি কথা বলছেন মাননীয় এমামুযযামান
মাননীয় এমামুযযামান
মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
ক্লিনিকে রোগী দেখার অবসরে মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
করটিয়ায় হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠাকালীন বক্তব্য রাখছেন মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
১ম মোজেজা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী বক্তব্য দিচ্ছেন।

















